০.৫ (আধা) পয়সা প্রতি সেকেন্ডে কথা বলুন যেকোনো নাম্বারে

বাংলাদেশে কোনো না কোনো ভাবে মোবাইল ব্যবহারের খরচ বাড়তেই আছে। কলরেটের উপর ভ্যাট বাড়া সহ ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও অনেক বেশি। এই অবস্থাতে গ্রাহকরা ঝুঁকছে বিভিন্ন ইন্টারনেট ভিক্তিক অ্যাপগুলোর দিকে। এসবের তালিকাতে আছে ফেসবুক মেসেঞ্জার, ইমো, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম সহ আর বিভিন্ন ধরনের চ্যাট ভিত্তিক অ্যাপ। গ্রাহকদের এসব অ্যাপের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রধান কারন হলো এসব অ্যাপে কোনা টাকা বা পয়সা খরচ হয় না শুধুমামাত্র ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই কল কিংবা মেসেজিং করা যায়। তবে এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হলো যাকে আপনি কল করবেন তার ইন্টারনেট কানেকশন থাকা বাধ্যতামূলক। তাছাড়া এসব অ্যাপ তার মোবাইলেও ইনিশ্টাল করা থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আপনি যাকে কল দেবেন তার ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা অ্যাপগুলি তার মোবাইলে নাই। অনেক সময় দেখা যায় যে যাকে কল দেবেন তার স্মার্টফোন নাই বা ব্যবহার করে না। আপনার এসব সমস্যার সমাধান খুজে পাবেন আইপি কল অ্যাপে। আইপি কলের প্রধান সুবিধা হলো আপনি যাকে কল দেবেন তার ইন্টারনেট সংযোগ, স্মার্টফোন, কিংবা অ্যাপগুলি থাকা লাগবে না। শুধু মাত্র আপনার ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই কল করা যাবে। এবং আইপি কলের আর একটি সুবিধা হলো এতে কলরেট অনেক কম। মাত্র আধা পয়সা প্রতি সেকেন্ডে বা ৩০ পয়সা প্রতি মিনিটে যেকোনো নম্বরে কল করতে পারবেন। এছাড়া আপনি আইপি অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করলে সম্পূর্ণ নতুন একটি আইপি নাম্বার পেয়ে যাবেন।আর আইপি নাম্বার থেকে আইপি নাম্বারে কল করতে কোনো খরচ হবে না।



কোথায় পাবেন আইপি অ্যাপ:

দেশে এখন বিভিন্ন ইন্টারনেট প্রোভাইডার্স কম্পানি তাদের অ্যাপের মাধ্যমে ভয়েস সেবা বা আইপি কলের সুবিধা দিচ্ছে। এদের মধ্যে অন্যতম অ্যাপগুলি হলো ব্রিলিয়ান্ট এবং আম্বার আইটি অ্যাপ। এসব অ্যাপগুলিকে ভয়েস সেবার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনুমোদন দিয়েছে। আপনি গুগোল প্লেস্টোর থেকে খুব সহজেই ব্রিলিয়ান্ট এবং আম্বার আইটি অ্যাপ ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। ডাউনলোডের পর রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে খুব সহজেই অ্যাপগুলি ব্যবহার করতে পারবেন।

রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে:
অ্যাপগুলি ডাউনলোড করার পর আপনার নাম মোবাইল নাম্বার দিয়ে খুব সহজেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। তবে আপনাকে নিবন্ধন এর জন্য অবস্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার এবং ছবি ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধন ভেরিফাই হবার পর আপনাকে বোনাস হিসাবে ১০ টাকার ফ্রি টকটাইম দেওয়া হবে।এবং পেয়ে যাবেন সম্পূর্ণ নতুন একটি নাম্বার। এছাড়া আপনি অন্যকাউকে আপনার রেফারেন্স নাম্বার দিয়ে রেফার করার মাধ্যমে টকটাইম বোনাস পেতে পারেন।

রিচার্জ করবেন যেভাবে :


আইপি নাম্বারে রেজিস্ট্রেশন করার মতোই রিচার্জ করাও অনেক সহজ। বিকাশ, রকেট, নগত সহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি অ্যাকাউন্টে রিজার্জ করতে পারবেন। এক্ষত্রে কম্পানিটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মার্সেট নাম্বারে আপনি যত টাকা রিচার্য করবেন সেটি পেমেন্ট করলেই সাথে সাথে অ্যামাউন্ট টি আপনার ব্যালেন্সে যোগ হয়ে যাবে। রিচার্জকৃত ব্যালেন্সের মেয়াদও পাবেন অনেক দিন।

আইপি নাম্বারের সুবিধাসমূহ :


আইপি নাম্বারের প্রধান সুবিধা হলো যেকোনো নাম্বারে অনেক কম খরচে কথা বলা। মাত্র ৩০ পয়সা মিনিটে আপনি টিএনটি সহ যেকোনো অপরেটরে সবসময় কথা বলতে পারবেন। সাথে পাচ্ছেন ১ সেকেন্ড পালস্ সুবিধা। তাছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন সম্পূর্ণ নতুন একটি নাম্বার।

বর্তমানে অ্যাপ ছাড়াও আইপি টেলিফোন সেট বাজারে এনেছে এসব আইপি কম্পানি। শুধুমাত্র ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে খুব সহজে সাধারন টেলিফোনের মতোই ব্যবহার করতে পারবেন এসব টেলিফোন। টেলিফোনগুলির দাম শুরু হচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে।
বর্তমানে মোবাইল কম্পানিদের বিভিন্ন সুবিধার কারনে এসব আইপি অ্যাপ তেমন জনপ্রিয়তা পায় নি। তবে অনেকে এসব আইপি নাম্বার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। হয়তো ভবিষ্যতে এই অ্যাপের ব্যবহার বাড়তে পারে।

Post a Comment

0 Comments