Header AD

সপ্নের ব্রিজ - সপ্নের চেয়ে সুন্দর

সপ্নের ব্রিজ - সপ্নের চেয়ে সুন্দর

সপ্নের ব্রিজের অবস্থান :

যশোর জেলার শার্শা থানার নাভারনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বেত্রাবতী নদী। ঐতিহাসিক এই বেত্রাবতী নদী পারাপারের উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছে এই সপ্নের ব্রিজ।বাংলাদেশ সরকারের সহযোগীতায় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের তত্বাবধানে ব্রিজটি গড়ে উঠেছে।শহরের পরিবেশকে উপেক্ষা করে গ্রামটিকে একটি অন্যরকম মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে ব্রিজটি।এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনে ব্রিজটি একটি অন্যরকম জায়গা করে নিয়েছে।তাদের কাছে সপ্নের ব্রিজটি একটি ভালোবাসার নাম।
চিত্র: সপ্নের ব্রিজ

সপ্নের ব্রিজে ঘোরাঘুরি :

বিয়ের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম নাভারনের একটু ভেতরে।হঠাৎ কে যেনো বললো এই গ্রামে একটা সুন্দর যায়গা আছে "সপ্নের ব্রিজ"।
নামটা শোনা মাত্রয় সেখানে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জেগে উঠলো।যেই ভাবা সেই কাজ।বিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার হেঁটে চলে আসলাম সপ্নের ব্রিজের কাছে।
সত্যি বলতে ব্রিজটা আমার খুবই ভালো লাগলো।অনেকটা সপ্নের মতো।সপ্নের মতো বললে ভুল হবে,সপ্নের চেয়ে সুন্দর।
ব্রিজের দুই পাশে শেওলা ভরা নদী আর ব্রিজের সৌন্দর্য মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।আমি ব্রিজের এপাশ থেকে ওপাশে কয়েকবার হাটাহাটি করলাম। এরকম সুন্দর একটা স্থানে এসে মনটা অনেক ভালো হয়ে গেলো।
চিত্র: ব্রিজের উপরের ছবি
ব্রিজের উপরে দুই পাশে ফুলের টবে বিভিন্ন ধরনের ফুলগাছ ব্রিজের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।ব্রিজটির দুই পাশে সাধারন মানুষের বসার জন্য সুন্দর ব্যাবস্তা আছে।দেখলাম বিকালের দিকে অনেকে এসে বসার স্থানে এসে বসে গল্প করছে।ইচ্ছা করছিলো তাদের সাথে যেয়ে গল্প করি।কিন্তু কি ভাববে এটা ভেবে তাদের সাথে গল্প করা হলো না।স্থানীয় মানুষ যাতে রাতে কোনো কষ্ট ছাড়া চলাচল করতে পারে সে কারনে ব্রিজটিতে সৌরবিদ্যুৎ এর মাধ্যমে যথেষ্ট আলোর ব্যাবস্থা করা হয়েছে।নদীটির একপাশে আছে সুন্দর একটি গ্রাম আর অন্যপাশে আছে শহরে যাতায়াতের জন্য রাস্তা।
ব্রিজটিতে দাড়িয়ে আপনার মনের ভেতরে একটু অন্যরকমের অনুভুতি সৃষ্টি হতে পারে।বেত্রাবতী নদীতে সবুজ শেওলাতে পরিপূর্ন থাকাতে ব্রিজের উপরে দাড়িয়ে মনে হতে পারে এটা বোধহয় সবুজে ঘেরা স্বর্গ।ব্রিজের ওপর থেকে হঠাৎ চোখে পড়তে পারে কোনো একজন বৃদ্ধ লোক কিংবা একটা গ্রামের যুবক ছিপ হাতে একমনে মাছ ধরাতে ব্যাস্ত।হয়তো জাল দিয়ে কোনো মধ্যবয়সের একজন মাছ ধরার চেষ্টা করছে।হঠাৎ করে কিছু ছোটো ছোটো ছেলে মেয়েদের দেখলাম স্কুল থেকে ফিরে আসছে ব্রিজের ওপর দিয়ে।দেখে মনে হলো ব্রিজটি অন্তত এসব ছোটো বাচ্চাদের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন।এসব প্রাকৃতিক পরিবেশ কার না ভালো লাগবে।
নদীর দুই ধারের গাছ গুলি দেখলে মনে হয় গাছগুলি বোধহয় নদীর সাথে মিশে যেতে চাচ্ছে।সুন্দর গাছগুলি নদীর সাথে মিশে একটা ভালোবাসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
চিত্র: বেত্রাবতী নদী
নদীর দুই ধারের গাছগুলি দেখলে মনে হতে পারে।গাছের নিবিড় ছায়াতে বসে কিছু সময় বিশ্রাম করে নেই।তবে ব্রিজটির রুপ যেনো গোধুলি লগ্নে বেশি ফুটে ওঠে।যদি আপনি ব্রিজটিতে আসতে চান তবে আপনার জন্য বিকালের সময়টা হবে সঠিক সময়।
এতো সুন্দর একটা ব্রিজে এসে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না।অবশেষে কিছু ছবি তুলে সেখান থেকে বিদায় নিলাম।

কিভাবে আসবেন সপ্নের ব্রিজে:

সপ্নের ব্রিজে আসতে চাইলে আপনাকে প্রথমে নাভারন বাজারে আসতে হবে।নাভারন বাজার থেকে আপনাকে নাভারন নতুন বাজারে আসতে হবে।সেখান থেকে যেকোনো ভ্যান কিংবা ইজি বাইক চালক কে সপ্নের ব্রিজের কথা বললে খুব সহজে আপনাকে সপ্নের ব্রিজে নিয়ে যাবে। 

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post

ads

Post ADS 1

ads

Post ADS 1