Header AD

ঈদের ছুটিতে অল্প খরচে ঘুরে আসুন ইন্ডিয়া থেকে - ২য় পর্ব

 বাংলাদেশের গেট পার হওয়ার পরে আপনি যখন ইন্ডিয়ার গেটে যাবেন তখন দুই জন অফিসার আপনার পার্সপোর্ট,ভিসা এবং সীল চেক করবে।ওরা আপনাকে ছোটো একটা ফর্ম দিবে গেট থেকে।ফর্ম টিতে আপনার কিছু তথ্য এবং কোনো ইন্ডিয়ান ঠিকানা দিতে হবে।ফর্মটা পুরণ করা হয়ে গেলে ঢুকে পড়ুন ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসে।

ইমিগ্রেশন অফিসে ঢুকলে আপনাকে প্রথমে ব্যাগ চেক করবে।ব্যাগ যদি বড় হয় তবে স্ক্যানার এ দিতে হবে ছোট হলে সাধারনত চেক করে না।তবে আমাদের কাছে বড় এবং ছোট দুইটা ব্যাগ ছিলো।দুটি ব্যাগই স্ক্যানারে দিতে হয়েছিলো।
ইমিগ্রেশন অফিস থেকে আমারা ব্যাগ চেক করে সামনের অফিসের দিকে আগাতে লাগলাম।সেখানে বাঁশের বেড়ার পাশে কিছু দালাল বসে ফর্ম পুরন করছে।যে ফর্ম টি আপনাকে গেট থেকে দিয়েছিলো সেটা নিজে পুরন না করতে পারলে এদেরকে ১০ টাকা দিলে পুরন করে দিবে।আপনাকে যদি কোথায় উঠবেন এ ঠিকনা জানতে চাই।তাহলে জানা থাকলে বলতে পারেন তবে না জানা থাকলেও সমস্যা নেই।ওরা একটা হোটেলের ঠিকানা লিখে দেবে।
দালালরা যদি জানতে চাই আপনার কাছে কি বাংলা টাকা আছে আপনি সরাসরি বলে দিবেন আপনার কাছে রুপি ছাড়া টাকা নাই।এটা না বললে ওরা আপনাকে টাকার বিনিময়ে রুপি দিতে চাইবে এবং আপনাকে অনেক কম রেট দিবে।সুতরাং দালাল থেকে সাবধান........
এখান থেকে পার হয়ে আপনাকে ইন্ডিয়ান ভিসা সিলের অফিসের সামনে লাইনে দাড়াতে হবে।সকালের দিকে গেলে এখানে লাইনের পরিমান অনেক ছোটো থাকে তবে একটু দেরিতে গেলে ভোগান্তি চরমে পৌছাবে।
এই লাইনে দাড়ানো নিয়ে আপনাদের সাথে একটা মজার কাহিনী শেয়ার করছি:
আমি আর আমার চাচাতো ভাই একসাথে ইন্ডিয়াতে ভ্রমনের উদ্দ্যেশ্যে বের হয়।সময়ের অভাবে আমি পহেলা বৈশাখের ছুটিতে বৈশাখের প্রথম দিন ইন্ডিয়াতে রওনা দেই।আমরা অবশ্য একটু দেরিতে পৌছায়ছিলাম। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন অফিসে আমাদের পরিচিত একজন থাকাতে আমাদের কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় নি।ছুটির দিন হওয়াতে বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ সেদিন ইন্ডিয়াতে ঘুরতে যাচ্ছিলো।তাছাড়া দুই দেশের সমন্বয়ে বর্ডারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ার কারনে এমনিতেই অনেক ভিড় ছিলো বর্ডারে।যাহোক,ইন্ডিয়ান সিলের অফিসের সামনে দেখি অনেক লম্বা লাইন।আমার চাচাতো ভাই এর আগে কয়েকবার ইন্ডিয়াতে গেলেও এটা ছিলো আমার প্রথম সফর।চাচাতো ভাই বলল এত বড় লাইন শেষ হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে।ও নতুন একটা বুদ্ধি খাটালো। ও আমাকে লাইনে দাড়াতে বলে বলল তুই এখানে দাড়া আমি সামনের দিকে যাচ্ছি।তোকে ফোন দিলে তুই সামনের দিকে চলে আসবি।আমি প্রায় ১৫ মিনিট দাড়িয়ে থাকার পরে ও আমাকে কল করে একেবারে সামনের দিকে চলে আসতে বলল।ও সামনের দিকে যাইগা করে নিয়েছে। আমি সামনের লাইনের কাছাকাছি গেলে একজন অফিসার বলল সামনে যাওয়া যাবে না লাইনে দাড়ান।আমি তখন অফিসার কে বুদ্ধি খাটিয়ে বললাম আমি আর আমার চাচাতো ভাই একই সাথে ছিলাম। আমি একটু বাইরে গিয়েছিলাম এ কারনে আলাদা হয়ে গেছি। আমি প্রথমবার ইন্ডিয়াতে ঘুরতে এসেছি।আমি কিছুই জানি না চিনি না।আমি আমার ভাই ছাড়া যেতে পারব না।অফিসারটি কোনোভাবে আমার যুক্তি নিলো না।কিছুতেই আমার লাইনে দাড়ানোর সুযোগ দিলো না।মনে মনে অফিসারটিকে ১০০ টা গালি দিলাম।এ সময় আরেকটা অফিসার দাদাকে বললে সে খুব সহযে আমাকে সামনের দিকে দাড়ানোর সুযোগ করে দিলো।দাদাকে একটা ধন্যবাদ জানালাম।যাহোক,ইন্ডিয়ান ভিসা সিল অফিসে ঢোকার পর।অফিসারেরা আমার ভিসা এবং সিল চেক করে একটা সিল মেরে দিলো।এরপর ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ।
ইন্ডিয়া

এরপর আপনাকে যেটা করতে হবে সেটা হলো বাংলাদেশের টাকা ভাঙ্গিয়ে ইন্ডিয়ান রুপি করা।ইন্ডিয়ার বর্ডারে আপনি অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখতে পাবেন যারা টাকা রুপি করে দেবে।সবাই কিন্তু এক রেট দিবে না।আপনি একটু যাচাই করে টাকা ভাঙ্গিয়ে নিবেন।টাকা ভাঙ্গানো শেষ হলে একটা টেম্পু করে বোনগাঁ স্টেশনে যান।এখান থেকে ভাড়া ২৫ রুপি।
এরপর স্টেশনে নেমে হালকা নাসতা করে নিন।কারন ট্রেনের ভেতরে আপনি খাবার পেলেও সেটা খুব একটা ভালো খাবার হবে না।নাস্তা করে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কিনে নিন।ইন্ডিয়াতে আপনার একটা বিষয় খুবই ভালো লাগবে সেটা হলো এখানে ট্রেনের টিকিটের মূল্য অনেক কম।কাউন্টারের সামনে আপনি বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার টিকিটের মুল্য দেখতে পারবেন। আপনি যেখানে যাবেন সেখানকার টিকিটের মূল্য দিয়ে টিকিট কিনে নিন।কাউন্টারের পাশে একটা স্ক্রিনে দেখতে পারবেন আপনার ট্রেন কখন ছাড়বে।কিংবা পাশে বলতে থাকা মাইকের দিকেও লক্ষ করতে পারেন। আপনার ট্রেনটি কখন ছাড়বে মাইকে বাংলা,ইংরেজি এবং হিন্দিতে বলতে থাকবে।কাউন্টার থেকে যত দ্রুত সম্ভব ট্রেনে যেয়ে বসুন।তা না হলে ছিট পাবার কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না।
আমরা দমদম পর্যন্ত টিকিট কেটেছিলাম ট্রেনের ভাড়া ১৫ রুপি।ট্রেনে উঠে পড়লাম সৌভাগ্য আমরা ছিট ও পেলাম।
ট্রেনের ভেতরে আপনি বিভিন্ন্য ধরনের ফল পাবেন অনেকে বিক্রি করছে।এখনে অনেক কম দামে ফল কিনতে পারবেন।ট্রেনে যাত্রার সময় আপনি এসব ফল খেয়ে সময় পার করবেন।বোনগাঁ থেকে দমদম স্টেশন পর্যন্ত যেতে সাধারনত ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট সময় লাগে।তবে এর বেশি সময় ও লাগতে পারে আমাদের একটু বেশি সময় লাগতে পারে।ট্রেন যত দমদমের কাছাকাছি আসতে লাগল ততো ট্রেনের ভিড় বাড়তে লাগল।এতটাই ভিড় যে আমি বসে আছি আমার পায়ের ফাঁকে এসে আর একজন দাড়িয়ে গেলো।বুঝতে পারলাম এখানকার অধিকাংশ মানুষ যাতায়াতের জন্য ট্রেনটাকেই বেশি ব্যবহার করে।
আপনি নতুন গেলে হয়ত স্টেশন নাও চিনতে পারেন তবে ট্রেনে থাকা যাত্রিদের কাছে জানতে চাইলে আপনাকে তারা স্টেশনের নাম বলে দেবে।অবশ্য অধিকাংশ যাত্রীরা দমদমে নেমে মেট্রো রেলে কলকাতা পর্যন্ত যায়।আমরা নির্দিষ্ট সময়ের পরে দমদমে পৌছালাম।
আমার স্টেশনে নেমে ব্রিজ দিয়ে নিচে নামলাম।তারপর ওখানকার এক চায়ের দোকান থেকে হালকা নাস্তা করলাম।
আমরা দুই ভাই থাকার জন্য হোটেলে না যেয়ে একটা বাড়িতে উঠতে চেয়েছিলাম।এ কারনে দমদমে নামা।
আপনি যদি গ্রামের এসব বাড়িতে থাকেন তবে আপনার খরচটা আরও অনেক কমে যাবে।তাছাড়া এসব বাড়িতে থাকার আরেকটা সুবিধা হলো আপনি এখানে নিজের ইচ্ছামতো রান্না করে খেতে পারবেন।তাতে আপনার খাবার খরচটাও অনেকটা কমে যাবে।তবে এর একটা অসুবিধাও আছে। আপনাকে প্রতিদিন গ্রাম থেকে কলকাতা আসতে ৪০ মিনিটের মত সময় লাগবে।তবে যাতায়াত খরচ কম আছে।বাসে আপনাকে কলকাতা পর্যন্ত ১৬ রুপি ভাড়া দিতে হবে। এসব বাড়ির ভাড়া সাধারনত প্রতি রাত্রি ২০০ রুপি।এবং বাড়ি থেকে আপনাকে রান্না করার জন্য যেগুলি দরকার সব দিয়ে দিবে।আপনাকে শুধু নিজে বাজার করে নিতে হবে।এটা অনেক ঝামেলার কাজ বটে। সাধারনত বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য যারা কলকাতা যায় তারা অধিকাংশ এসব বাসাতে থাকে।অনেক দিন থাকতে হয় বলে এসব বাড়িতে থাকলে খরচটা অনেক বেঁচে যায়।
আমার আব্বু-আম্মু ২ বার চিকিৎসার জন্য এসে এখানেই ছিলো সে কারনে এই বাড়ির সম্পর্কে এতো তথ্য জানা।আমরা যে গ্রামে গিয়েছিলাম সেটার নাম নারায়নপুর। আমরা আগে থকে নারায়নপুরের ঠিকানা সম্পর্কে বাড়ি থেকে বিস্তারিত জেনে গিয়েছিলাম। দমদম স্টেশন থেকে আমরা নারায়নপুরের বাসে উঠে গ্রামের দিকে যেতে থাকলাম।প্রথমে নারায়নপুরের বাস চিনতে না পারাতে স্থানিয় দাদাদের কাছে জেনে আমরা বাস খুজে পেলাম।আমরা যে মালিকের বাড়িতে উঠতে চেয়েছিলাম ওনার নাম আলাউদ্দীন।উনি মুসলিম এবং ওনার একটা চায়ের দোকান আছে।ওখনে যেয়ে ওনার সাথে কথা বললে উনি ওনার বাড়িতে নিয়ে যাবে।আমরা যখন নারায়নপুর পৌছালাম তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে।আমরা খুজতে খুজতে আলাউদ্দীন কাকার চায়ের দোকানটা পেয়ে গেলাম। ওনাকে আমার আব্বু আম্মুর কথা বললাম।প্রথমে না চিনতে পারলেও পরে উনি আমাদের চিনতে পারলেন। তবে বাড়ি ভাড়া নেবার বিষয়ে ওনার সাথে কথা বলার পরে উনি যেটা জানালেন।সেটা শুনে আমরা দুই ভাই হতাস হয়ে পড়লাম।

চলতে থাকবে......


Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post

ads

Post ADS 1

ads

Post ADS 1