Header AD

ঈদের ছুটিতে অল্প খরচে ঘুরে আসুন ইন্ডিয়া থেকে-৩য় পর্ব

ইন্ডিয়া

 


একটা মজার ব্যাপার হলো আমরা আলাউদ্দীন কাকার চায়ের দোকানে যেয়ে বলছিলাম। কাকা এখানে আলাউদ্দীন কাকার চায়ের দোকান কোনটা। কাকা একটু হেসে জানতে চাইল, কেনো বাবা?।পরিচয় দেবার পর বললাম আমরা আপনাদের বাসাতে থাকতে চাই।তবে তিনি আমাদের কথাতে যে উত্তর দিলেন সেটাতে আমার হতাস।কারণ এমনিতে নারায়নপুর পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে তার উপর সারাদিন জার্নি করে অনেকটা টায়ার্ড।কাকা যেটা আমাদের জানালো সেটার জন্য আমরা কোনোভাবে প্রস্তুত ছিলাম না।
যাহোক কাকা বললো আজকে বাংলাদেশিদের অনেক বেশি চাপ।সকালে দুইটা রুম খালি ছিলো।একটু আগে বুক হয়ে গেছে।তিনি জানতে চাইলেন তার নাম্বার আমার কাছে আছে কিনা।আমরা জানালাম আমাদের কাছে নাম্বার নাই।তিনি তার নাম্বারটা দিয়ে বললো এবার থেকে কোনোদিন আসলে বাংলাদেশ থেকে তাকে কল করে আগে থেকে বুকিং করে রাখতে।
তবে তিনি কোনো রুম না দিলেও তার আসেপাশের অনেক বাড়িতে চেষ্টা করলেন রুম পাওয়া যায় কিনা।কিন্তু আমাদের ভাগ্যটা আসলেই খারাপ।পাশের একটা বাড়িতে অনেক বড় একটা বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়াতে বিয়ে বাড়ির লোকজন সব কয়টা বাড়ি আগে থেকে বুকিং দিয়ে রেখেছে।আমরা অনেকটা চিন্তাতে পড়ে গেলাম। কারন এখানে রুম না পেলে আমাদেরকে রাতে থাকার জন্য জায়গা ম্যানেজ করতে হলে। আমাদেরকে কলকাতা যেতে হবে।কথা বলতে বলতে রাতের আধার অনেকটা নেমে এসেছে।কাকা অনেক চেষ্টা করেও আমাদের জন্য কোনো থাকার জায়গার ব্যবস্তা করতে পারলেন না।বাধ্য হয়ে আমাদেরকে আবার কলকাতাতে ফিরে আসতে হবে।আমরা যখন ফিরে আসব তখন একটা লোক কাকার দোকানে আসল। কাকা আমাদের কে ভদ্রলোকটার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো।ভদ্র লোকটার নাম মনে নেয়।তবে তার বাড়ি আমাদের অঞ্চলে।খুলনা শহরে তার বাড়ি।তিনি জানালেন তিনি আলাউদ্দীন চাচার বাড়িতে ৭ দিন অবস্থান করছেন। কিছুদিন আগে তিনি তার মাকে নিয়ে এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য।কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলো।পরে ওনার আম্মা অসুস্থ থাকাতে উনি একা একা ডাক্তারের সাথে আলোচনা করতে এসেছেন।উনি বললেন ওনাকে এখন কলকাতা যেতে হবে।ওনার কথা শুনে আমারা আশস্থ হলাম।উনি বললেন একসাথে যাওয়া যাক তাহলে তোমাদেরও সুবিধা হবে।আর একসাথে গল্প করতে করতে গেলে সময় দ্রুত যাবে।আমরা তার কথাতে সম্মতি জানালাম।
আলাউদ্দীন চাচার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা বাস স্টেশনের দিকে রওনা হলাম।বাসে উঠে উনি আর আমরা টিকিট কাটলাম নিউ মার্কেট পর্যন্ত।আমার চাচাতো ভাই যেহেতু এর আগে কয়েকবার ইন্ডিয়াতে এসেছে।সে নিউ মার্কেট এলাকাটা মোটামুটি চেনে।বাস যখন ছাড়লো তখন সন্ধ্যা ৮ টা বাজে।বাসে পরিচিতি হতে হতে জানতে পারলাম। আমাদের সাথে যাওয়া ভদ্র ব্যক্তিটি পেশায় একজন সাংবাদিক। পাশাপাশি তার নিজের ব্যবসা আছে খুলনা শহরে।তাছাড়া তার সাথে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা অর্থনীতিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করলাম।তিনি জানতে চাইলেন আমরা কত দিন ইন্ডিয়াতে অবস্থান করবো। আমরা জানালাম ২ দিন।তিনি আমাদেরকে এই ২দিন কোথায় কোথায় ঘুরতে পারি সে সম্পর্কে কিছু ধারনা দিলেন।গল্প করতে করতে আমরা অবশেষে নিউ মার্কেট এলাকাতে আসলাম।উনি আমাদেরকে সাথে নিয়ে বাস স্টফে নামলেন। আমরা যখন বাস থেকে নামলাম তখন বাজে রাত ১০ টা।তিনি নেমে আমাদেরকে হোটেল খুজতে বললেন। কিছুদুর একসাথে হাটার পর তার কাছ থেকে আমরা বিদায় নিলাম।
এরপর রাতে থাকার জন্য হোটেল খোজার পালা।আমার চাচাতো ভাই এর আগে যে হোটেলে ছিলো আমরা প্রথমে সেখানে গেলাম রুম খুজতে।কিন্তু খুব খারাপ লাগার বিষয় আমরা সেখানেও কোনো রুম পেলাম না।আমরা বাস থেকে যেখানে নেমেছিলাম সেখান থেকে হোটেলের দুরত্ব প্রায় ২ কি: মি:। এমনিতে সারাদিন জার্নি করে আমরা ক্লান্ত।তাছাড়া হালকা নাস্তা ছাড়া তেমন কিছুই খাওয়া হয় নি।সে কারনে দুজন মিলে ভাবলাম খাওয়া কাজটা আগে সেরে নেই তারপর না হয় রুম খুজব। আমরা দুজন মুসলিম হোটেল খুজতে লাগলাম।খুজতে খুজতে একটা পেয়েও গেলাম।এ অঞ্চলে খাওয়ার হোটেলের পরিমান একটু কম। হোটেলে ঢুকে চার্টে দেখলাম সবকিছুর মূল্য একটু বেশি।তবুও এত পরিমান ক্ষিধা লেগেছিলো এখানে বসেই খেয়ে নিলাম।খাওয়া-দাওয়া করতে করতে একজনের কাছে জানতে পারলাম।আজকে বাংলাদেশিদের অনেক বেশি চাপ। এত বেশি মানুষ বাংলাদেশ থেকে এসেছে যে হোটেলে রুম পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা অনেক চিন্তাতে পড়ে গেলাম। না জানি আমাদের সারারাত রাস্তাতে কাটাতে হয়।খাওয়া শেষ করে আমরা থাকার যায়গা খুজতে লাগলাম। একজন বাংলাদেশি ভাই বললো কোথাও কোনো রুম নাই।তবে যা দু একটা পাবেন অনেক বেশি ভাড়া দিতে হবে।সেও আমাদের মতো থাকার জন্য রুম খুজছে। অনেক চেষ্টা করে যখন আমরা রুম পাচ্ছি না তখন আমাদের একজন পরিচিত আত্নিয়র কাছে কল করলাম সে কোনো ব্যবস্থা করতে পারে কিনা।কিন্তু সেও কোনো ব্যবস্তা করতে পারলো না। আসলে ভাগ্য যখন খারাপ হয় তখন বোধহয় সবদিক থেকে খারাপ হয়। আমরা একরকম ভেবেই নিলাম যে আমরা হয়ত কোনো রুম পাবো না। তবে আমরা হাল ছাড়লাম না।আবার হোটেল খোজার কাজে লেগে পড়লাম। তারপর একটা দালালের সাথে দেখা হলো সে বলল সে রুমের ব্যবস্তা করে দেবে। কিন্তু সেও কোনো ব্যবস্তা করতে পারলো না। এরপর আমার চাচাতো ভাই তার মানিব্যাগ এ একটা হোটেলের নাম্বার পেলো। ও নাকি এর আগে এখানে একবার ছিলো। ও কল করার পর হোটেলের ম্যানেজার কলটা রিসিভ করে জানালো তার ওখানে একটা রুম আছে। আল্লাহ্ আমাদের দিকে মুখ তুলে চাইলেন।আমরা রুম টা আমাদের জন্য বুক করতে বললাম। তারপর আমরা আমাদের রাতের থাকার স্থানের দিকে হাটতে লাগলাম।

চলতে থাকবে.....


Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post

ads

Post ADS 1

ads

Post ADS 1