Header AD

ঈদের ছুটিতে অল্প খরচে ঘুরে আসুন ইন্ডিয়া থেকে-৪র্থ পর্ব

ইন্ডিয়া

অনেক কষ্টের পর আমরা মোবাইলে কথা বলে একটা হোটেলের রুম পেলাম। আমরা হাটতে হাটতে হোটেলের দিকে যেতে লাগলাম। আমার চাচাতো ভাই এর আগে যেহেতু হোটেলটাতে গিয়েছে এ কারনে যেতে খুব একটা সমস্যা হচ্ছিলো না। আপনি কলকাতা নিউ মার্কেটের রাস্তা দিয়ে হাটতে গেলে রাস্তা ভুল করাটা স্বাভাবিক। কারন একটি রাস্তা থেকে আরকটি রাস্তার কোনো পার্থক্য নেই। সব রাস্তা প্রায় একই রকম। ও আগে থেকে কিছু স্থান মার্ক করে রেখেছিল। সে কারনে সেগুলো দেখে দেখে খুব সহজে আমরা সামনের দিকে আগাতে থাকলাম। আপনারাও যেখানে বারবার যাওয়া আসা করবেন অবস্যই কিছু যায়গা মার্ক করে রাখবেন। তবে আপনার রাস্তা চলাচলে সুবিধা হবে।
হাটতে হাটতে আমরা হোটেলে চলে আসলাম। হোটেলে আসার পর হোটেলের ম্যানেজার কে মোবাইল নাম্বারটা দেখানোর পর আমাদের রুমটি দেখিয়ে দিলেন। হোটেলে থাকতে হলে কিছু প্রসেসিং করা লাগে। হোটেলের ম্যানেজারকে আমরা মামা বলে ডাকলাম। মামা ডাকটা অবশ্য আমাদের বাংলাদেশীদের একটা প্রচলিত ডাক বলা যায়। মামা(ম্যানেজার) বললেন আগে ফ্রেস হয়ে নিতে তারপর প্রসেসিং এর কাজটা করা যাবে। সারাদিন এত ধকলের পর গোসলটা খুব প্রয়োজন ছিলো। আমরা তাড়াতাড়ি গোসলের কাজটা সেরে নিলাম।
(বি: দ্র: হোটেলে থাকতে গেলে আপনার এক কপি ছবি এবং আপনার পার্সপোর্ট এর ফটোকপি সাথে নিবেন।)
গোসল শেষে মামা আমাদের পার্সপোর্ট টা নিয়ে গেলেন। বললেন একটু রেস্ট নিয়ে তারপর তার সাথে দেখা করতে। আমরা ১৫-২০ মিনিটের মতো রেস্ট নিয়ে মামার সাথে দেখা করতে গেলাম। তিনি আমাদের এক কপি করে ছবি নিলেন এবং অর্জিনাল পার্সপোর্ট টা রেখে দিলেন। বললেন নিজের কাছে পার্সপোর্ট রাখা রিস্ক আছে। আমাদের কাছে থাকলে হারানোর কোনো ভয় নেই। যাহোক রুমটা একটু ছোটখাটো ভাড়া ৬০০ রুপি করে। যেখানে কোনো রুম পাচ্ছিলাম না সেখানে এত অল্প টাকাতে এত ভালো একটা থাকার যায়গা পাবো ভাবতে পারিনি। আমরা অগ্রিম ৬০০ রুপি জমা দিয়ে সই করে মামার রুম থেকে বিদায় নিলাম। মামার কাছ থেকে জেনে আসলাম কয়টা পর্যন্ত গেট খোলা থাকবে। তিনি জানালেন সারারাতই খোলা থাকবে তবে রাত ১.৩০ টার ভেতরে ফিরে আসলে ভালো হয়। প্রথমে ভাবছিলাম বাহির হবো না। কিন্তু যেহেতু দুদিন থাকবো সেহেতু একটু ঘোরাঘুরি না করলে সব কিছু ফাও হয়ে যাবে।হোটেল  থেকে বাহির হয়ে সামনে একটা মোবাইলের দোকান আছে। আমাদের ভোডাফোন সিমটাতে রিজার্জ করা দরকার। দোকানটার মালিক আমাদের দেখে জানতে চাইলেন আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি কিনা?।
আমরা হ্যাঁ বললে তিনি যে পরিচয়টা জানালেন আমরা সেটাতে একটু অবাক হলাম। দোকানদার ভাইটির বাড়ি বাংলাদেশে। ওনার বাবা মা এখনও বাংলাদেশে থাকে। তবে উনি ছোটকালে ওনার চাচার সাথে ইন্ডিয়াতে এসেছিলো। এখন তিনি ইন্ডিয়ার নাগরিক। আমরা আরও অনেক গল্প করলাম। এমন একজনের সাথে পরিচয় হয়ে ভালোয় লাগলো। আমার এক বন্ধু আমার কাছে একটা মোবাইল কিনতে দিয়েছিলো আমি সে বিষয়ে কিছু কথা বললাম। উনি বললেন দামি মোবাইল গুলি সাধারনত এসব দোকানে পাওয়া যায় না। অনলাইন থেকে কিনতে হয়। যাহোক কিছু কথা বলে দুজন মিলে নিউ মার্কেটের দিকে রওনা হলাম। রাত প্রায় ১২:৩০ বাজে। এখনও নিউ মার্কেট এলাকায় মানুষের ভীড়। আর অধিকাংশ মানুষই বাংলাদেশের। কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম তারা হোটেল খুজছে কিন্তু কোনো রুম পাচ্ছে না। সারাদিন এমনিতে অনেক কষ্টের পর বেশি সময় ঘোরাঘুরি করেতে ইচ্ছা হলো না। আমরা যখন ফিরে আসছি তখন রাস্তার পাশে অনককে বসে থাকতে দেখলাম। তারা সকলেই বাংলাদেশ থেকে এসেছে। কিন্তু কোনো হোটেলে তারা রুম পায় নি। আসতে আসতে দেখলাম একটা ফ্যামিলি কি রাস্তার পাশে বসে থাকতে। কথা বলে জানতে পারলাম ভাইদের বাসা ঢাকাতে। ভাইটি দেশের বাইরে থাকে। কয়েকদিনের জন্য দেশে এসেছে। এই ফাঁকে সে তার মাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে এসেছে। কয়দিন পরে ফিরে যাবে। তারা ভ্যালোরে গিয়েছিল চিকিৎসার জন্য। ভাবছিলো রাস্তার মাঝে কলকাতাতে রাত থেকে সকালে বাংলাদেশের উদ্দ্যেশে রওনা দিবে। কিন্তু কোনো রুম না পাওয়ার কারণে রাস্তাতে বসে বসে রাত কাটাবে। কিছু সময় আমাদের সাথে গল্প করে তার ভালই লাগলো। অবশেষে জানতে চাইলো তাদের জন্য আমরা কোনো রুমের ব্যবস্তা করে দিতে পারবো কিনা। কিন্তু আমরা জানালাম আমরা হয়তো পারবো না। যাহোক আমরা কথা শেষ করে কোনো উপায় না থাকাতে তাদেরকে রাস্তাতে রেখেই চলে আসলাম হোটেলে। হোটেলের রুমে এসে আমরা আবার লুঙ্গি পরে ফ্রেস হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে যেনো একটু দ্রুত উঠতে পারি এ কারনে এলার্ম দিয়ে রাখলাম সকাল ৬ টার সময়।

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post

ads

Post ADS 1

ads

Post ADS 1