Header AD

ঈদের ছুটিতে অল্প খরচে ঘুরে আসুন ইন্ডিয়া থেকে-৫ম পর্ব

ভিক্টোরিয়া

 


সকালে ৬:২০ এর দিকে ঘুম থেকে উঠলাম। যে রুমটাতে ছিলাম তার পাশে একটা বেলকুনি ছিলো। হোটেলটির পাশে ২ টা কৃষ্ণচুড়া গাছ ছিলো। কলকাতাতে কৃষ্ণচুড়া গাছ দেখবো ভাবতে পারিনি। গাছ দুটি ফুলে ফুলে পরিপূর্ন ছিলো। মাঝে মাঝে গাছে দু-একটা পাঁখি ডেকে উঠছিলো। সকালে উঠে এতো সুন্দর একটা প্রকৃতি দেখে মনটা ভালো হয়ে গেলো। চাচাতো ভাই প্রথমে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াসরুমে গেলো। আমি বেলকুনিতে বসে। কলকাতার মানুষের দেখতে লাগলাম। সাথে সুন্দর একটা প্রকৃতি।
দুই ভাই ফ্রেস হয়ে হয়ে নিলাম। খুব দ্রুত ঘুরতে বের হতে হবে। কারন ২ দিন কলকাতাতে অবস্থান করবো। এর ভেতরে আবার একদিন একটু কেনাকাটা করবো। ঘুরতে বের হতে হলে আগে একটু পেটে জোর করে নিতে হবে। কোথায় সকালের নাস্তা করবো এটা জানার জন্য ম্যানেজার মামার কাছে গেলাম। মামা বললো আমরা যে হোটেলে আছি এই হোটেলের মালিকের একটা খাওয়ার হোটেল আছে। এটাও জানতে পারলাম হোটেলটি মুসলিম হোটেল। মামার কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে আমরা খাওয়ার হোটেলটি খুজে বাহির করলাম। হোটেলটা মোটামুটি পরিছন্ন। আমরা রুটি আর গরুর মাংস ভোনা অর্ডার করলাম। কলকাতাতে গরুর মাংস ভোনাকে বলে গরুর চুকা ভুনা।  আর ভাতকে বলা হয় চাউল। মাংসের স্বাদটা খুবই সুন্দর।  মনে হলো বাংলাদেশে খাওয়া দাওয়া করছি। খাওয়া শেষ করে বিল দিতে গেলাম হোটেলের ম্যানেজার জানতে চাইলো বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। যাহোক ম্যানেজার এর সাথে কথা শেষ করে বিল দিয়ে বাইরে আসলাম।
এবার ঘুরতে যাওয়ার পালা....
কোথায় ঘুরতে যাবো দুজনে ভাবতে লাগলাম। কিন্তু আমরা তো কোনো যায়গা চিনি কিংবা জানি না। এ কারনে google.com মামার সাহায্য নিলাম। google.com মামা থেকে আমরা কয়েকটি স্থান ঠিক করলাম। ভাবলাম আজকে সারাদিন এই যায়গা গুলিতে ঘোরাঘুরি করবো। প্রথমে যাবো রানী ভিক্টোরিয়ার বাড়িতে বা ভিক্টোরিয়া হলে। কারন এটি নিউ মার্কেটের আশেপাশে। একটি ইন্ডিয়ান দাদার কাছে জেনে নিলাম ভিক্টোরিয়া পার্কটি নিউ মার্কেট থেকে ৩ কি: মি:  থেকে ৩.৫ কি: মি: এর মতো দুরত্বে অবস্থিত। আমরা দুজন সিদ্ধান্ত নিলাম দুজন হেঁটে হেঁটে ভিক্টোরিয়াতে যাবো। কিন্তু নিউ মার্কেটের অলিগলি চেনা মুখের কথা না। কিন্তু আধুনিক যুগে এটা কোনো ব্যাপারই না। google মামা আমাদের জন্য সবকিছু সহজ করে দিয়েছে। আমার মোবাইলটা পকেট থেকে বাহির করে google maps app টি খুললাম। gps চালু করলাম তারপর ভিক্টরিয়া সার্চ দিলাম। খুব সহজে আমরা কিভাবে আমাদের কাঙ্খিত স্থানটিতে যাবো সেটার রাস্তা পেয়ে গেলাম। আমরা ম্যাপের রাস্তা অনুযায়ী হাঁটতে লাগলাম। নিউ মার্কেট পার হয়ে আমরা যখন বড়ো রাস্তাতে উঠলাম তখন অনেকটা অবাক হলাম কলকাতার প্রসস্থ রাস্তা দেখে। রাস্তাটি দেখে মনে হলো আমরা হয়তো কোনো উন্নত দেশে এসেছি। রাস্তার পাশে এক স্থানে দেখলাম ছেলেরা নেটে ক্রিকেট প্রাকটিস করছে। আমরা কিছুক্ষণ দাড়িয়ে খেলা দেখলাম।  খেলা দেখে আমরা ফুটপাত ধরে হাটতে লাগলাম। যেতে যেতে মনে হলো এরা বোধহয় এদের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এতটা উন্নত করতে পেরেছে। দেখলাম রাস্তার পাশে অনেক খাল জায়গা পড়ে আছে। এগুলো বোধহয় সরকারি খাস জমি। দুর থেকে দেখতে পেলাম বড়ো একটা অট্টালিকা।  ওপরে বড়ো একটা গম্বুজ। মনে মনে ভেবে নিলাম এটাই হয়তো ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল। তাছাড়া google maps ও সেটিই বলছে। হঠাৎ রাস্তার পাশে দেখলাম সুন্দর কয়েকটি ফুলগাছ। এই ফুলগাছ এর আগে কখনও দেখিনি। এই গরমের দিনেও গাছভর্তি ফুল। ফুলের রং গোলাপি। প্রখর রোদের ভেতরে ফুলগুলি যেনো আরও বেশি আলো ছড়াচ্ছে। এই রোদের ভেতরেও আমরা ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না। কিছু ছবি তুলে সামনের দিকে আগাতে থাকলাম। সামনে যেয়ে দেখলাম অনেকগুলি ঘোড়ার গাড়ি। গাড়িগুলি অনেক সুন্দর করে সাজানো। অনেকে গাড়িতে চড়ছে। আমরা অবস্য চড়লাম না। কিছু ছবি তুললাম। আসলে এমন একটা ঐতিহাসিক স্থানে ঘোড়ার গাড়ি থাকবে না সেটা কি হয়। ঘোড়ার গাড়ি অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাসের গুরুত্ব বহন করে। সময় নষ্ট না করে সামনের দিকে আগালাম। একটু সামনে যেয়ে দেখি ভিক্টোরিয়া হলের গেট। বুঝতে পারলাম আমরা অবশেষে পৌছে গেছি....

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post

ads

Post ADS 1

ads

Post ADS 1