Header AD

ঈদের ছুটিতে অল্প খরচে ঘুরে আসুন ইন্ডিয়া থেকে-ভিক্টোরিয়া ভ্রমন

 


ভিক্টোরিয়া


যাহোক হেঁটে হেঁটে অনেক কষ্ট করে google maps এর সাহায্য নিয়ে অবশেষে আমরা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল বা যাদুঘরে। তবে গেটের কাছে আসতেই খুশির তরীতে দমকা হাওয়া লাগলো। প্রথমে যে হারে মানুষ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের এরিয়ার ভেতরে প্রবেশ করছিলো। মনে হচ্ছিলো বোধহয় সবাই ফ্রিতে প্রবেশ করছে। কিন্তু পরে লক্ষ করলাম কয়েকজন ইন্ডিয়ান পুলিশ টিকিট চেক করছে। টিকিটের মূল্য কতো করে এটা জানার জন্য আশেপাশে খেয়াল করার সময় দেখতে পেলাম। দেয়ালে বড় বড় করে লেখা আছে। ইন্ডিয়ান ভ্রমনকারীদের টিকিটের মূল্য ২০ রুপি। অন্যথায় যেটা লেখা আমরা দুজন এটা আশা করিনি। অন্য দেশ থেকে ভ্রমনকারীদের জন্য টিকিটের মূল্য ২০০ রুপি মাত্র। এই মাত্রটাই আমাদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেলো। মনে মনে ভাবলাম আমাদের এতদুর কষ্ট করে হেঁটে আসাটাই কি বৃথা ?। সিদ্ধান্ত নিলাম ফিরে আসবো। কন্তু দুজনের মাথায় হঠাৎ দুষ্টু বুদ্ধি চাপলো। দুজনে ভাবলাম ২০ টাকা করে টিকিট কাটার চেষ্টা করে দেখলে কেমন হয়। চেষ্টা করতে তো কোনো দোষ নেই। তবে সত্য বলতে এটা আমাদের অন্যায়। যাহোক আমরা টিকিট কাউন্টারে দিকে আগালাম। কাউন্টারে অনেকে লাইনে দাড়িয়েছে। পাশে দুজন দেখলাম একটা বাচ্চাকে টাকা দিয়ে টিকিট কিনে আনতে বলছে। বুঝতে পারলাম আমাদের দলে অনেকে আছে। আমার চাচাতো ভাই সাহস করে লাইনে দাড়ালো। আমাকে পাশে দাড়াতে বলল। প্রায় ৭-৮ মিনিট পর ও ফিরে আসলো। ৪০ রুপি দিয়ে ২ টা টিকিট কিনেছে। কিভাবে করলো এটি জানতে চাইলে বললো একটু হিন্দিতে কথা বলেছিলো তাতেই টিকিট দিয়ে দিছে। কোনো সমস্যা হয় নি। ট্রিকস টা কিন্তু দারুন। যাহোক টিকিট যেখানে চেক করে ভেতরে ঢোকায় সেই গেটে যেতে একটু ভয় ভয় করছে। যদি বুঝতে পারে আমরা অন্যভাবে টিকিট সংগ্রহ করেছি। সাহস করে গেটের দিকে গেলাম। কোনো সমস্যা ছাড়া আমরা ভেতরে প্রবেশ করলাম। ভেতরে প্রবেশ করতে বুঝলাম আমরা আসলে অনেক সুন্দর একটি স্থানে এসেছি। ভিক্টোরিয়া হলের সামনে হাঁটার রাস্তা সম্পূর্ণ সাদা পাথর দিয়ে সাজানো। অবস্য পাথরের উপরে হাটতে একটু সমস্যা হচ্ছিলো তবে ভালো লাগছিলো।
গেটের ভেতরে ঢুকতেই আমরা যে রোমান্টিক ঘটনা দেখলাম সেটা আমাদের বাংলাদেশিদের জন্য অনেকটা অসস্থিকর। দেখলাম দুই জন মধ্য বয়স্ক পুরুষ এবং মহিলা দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে সবার সম্মুখে প্রেম নিবেদন করছে। আমরা না দেখার ভান করে সামনে আগাতে থাকলাম। ভিক্টোরিয়ার ভেতরের পাশে এতো সুন্দর সুন্দর ফুল গাছ আছে সেটা না দেখলে বোঝা দুস্কর। গাছগুলি ফুলে পরিপূর্ন। যেতে যেতে দুজন বাংলাদেশি ভাইদের সাথে দেখা হয়ে গেলো। তাদের কাছে জানতে চাইলাম আপনারা কত রুপি দিয়ে টিকিট ক্রয় করেছেন। তারা বলল একটা স্থানিয় বাচ্চাকে দিয়ে টিকিট ক্রয় করেছে মোট ৮০ টাকা খরচ হয়েছে দুজনের। আমরা আমাদের ঘটনা বলতেই তারা অনেক মজা পেলো। তারা মজা করে বললো আপনাদের যশোরে বাড়ি তো এ কারনে আপনাদের কে ৪০ রুপি নিয়েছে। সামনে আগাতে দেখলাম একটা বড় মূর্তি ভিক্টরিয়া হলের সামনে। বোধহয় এটা রানি ভিক্টরিয়ার মূর্তি। আমরা এই মূর্তির সামনে দাড়িয়ে অনেকগুলি ছবি তুললাম।

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post

ads

Post ADS 1

ads

Post ADS 1