সোনারগাঁও - লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন
লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এর ভিতরে রয়েছে , প্রধান ফটকে দুই জন অশ্বারোহী, গরুর গাড়ীর ভাস্কর্য, লাইব্রেরি ও ডকুমেন্টেশন সেন্টার, সদ্য নির্মিত জয়নুলের আবক্ষ ভাস্কর্য , ক্যান্টিন, লোকজ রেস্তরাঁ, সেমিনার হল, ডাক-বাংলো , কারুশিল্প গ্রাম, কারুপ্লবি, জামদানী ঘর, কারুমঞ্চ, কারুব্রিজ, মৃৎশিল্পের বিক্রয় কেন্দ্র , গ্রামীণ উদ্যান, আঁকাবাঁকা দৃষ্টিনন্দন লেক, বড়শিতে মাছ শিকার, নৌকা ভ্রমণ ও বনজ, ফলদ এবং ঔষধি সহ শোভাবর্ধন নানা প্রজাতীর বাহারি বৃক্ষরাজ্য।
![]() |
সোনারগাঁও কারুশিল্প ও লোকশিল্প ফাউন্ডেশন |
কারুশিল্প গ্রাম
কারুশিল্প গ্রামে বৈচিত্রময় লোকজ স্থাপত্য গঠনে বিভিন্ন ঘরে কারুশিল্প উৎপাদন, প্রদর্শন ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।দোচালা, চৌচালা, ও উপজাতায়ীয় মোটিফে তৈরি এঘর গুলোয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চালের অজানা, অচেনা, আর্থিকভাবে অবহেলিত অথচ দক্ষ কারুশিল্পীরা বাঁশ, বেত, কাঠখোদাই, মাটি, জামদানী, নকশীকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎশিল্প, ঝিনুক এবং অন্যান্য ইত্যাদি সামগ্রী দিয়ে কারুশিল্প উৎপাদন, প্রদর্শনও বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া জাদুঘরের অভ্যান্তরে আরও রয়েছে বিনোদন ব্যবস্থার জন্য পিকনিক স্পট, স্থাপত্য নকশা অনুযায়ী নির্মিত আঁকাবাঁকা মনোরম লেক।(১৪৪)
জয়নুলের ভাস্কর্য
ফউন্ডেশনের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সবুজ চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে শিল্পচায জয়নুল আবেদিনের আবক্ষ ভাস্কর্য। শিল্পী স্যামল চৌধুরী ভাস্কর্য টি নির্মাণ করেন। সম্প্রতি এই ভাস্কর্য টির ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে অনেকে ভির জমান ভাস্কর্য টি দেখার জন্য।
বিনোদন স্পট (ঐসতিহ্য)
ফাউন্ডেশনের প্রবেশ পথের সামনেই আগত পযটকদের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আম, লিচু, পাম, নারিকেল, মেহগনী ও গুবাকতরুর সাসির স্নিগ্ধ শ্যামল হৃদয় জুড়ানো নিরিবিলি পরিবেশে নিরমান করা হয়েছে ঐতিহ্য নামের এই বিনোদন স্পটটি।এই স্পটটি স্বস্তিকর ও আনন্দদায়ক বিনোদনে দেশের ভ্রমণ প্রিয় মানুষকে উৎসাহিত ও উজ্জীবিত করবে। এ স্পট ব্যবহারের জন্য নিদিষ্ট একটি ফি রয়েছে। এছাড়া ফাউন্ডেশনের প্রধান প্রবেশ পথের আশেপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিনোদন স্পট ও বিলাসবহুল সোনারগাঁও মিনি চাইনিজ রেস্তোরাঁর। এই সব কিছুর জন্য এই স্থান টি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। আপনি যদি ঢাকাতে বসবসাস করেন তাহলে একটু অবসর সময়েই এখানে চলে আসতে পারেন। কারণ সোনারগাঁ এমন একটি স্থান যেখানে আসলে আপনি অন্যরকম এক অনুভুতির মধ্যে চলে যাবেন। এখানে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের সকল ধরনের ইতিহাস ও বৈচিত্র সবই দেখতে ও বুঝতে পারবেন।শহরে ইট-পাথরের মধ্যে হাজারো কর্ম-ব্যাস্থতার পর যখন এখানে এসে গ্রামীণ বৈচিত্রপুণ্য পরিবেশ দেখবেন তখন এমনিতেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।
লোক ও কারুশিল্প মেলা এবং লোকজ উৎসব
ফাউন্ডেশনের আঙিনায় প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় বাংলার আররথ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক করমো কান্ডের অবকাঠামো, অথনৈতিক এবং উপরি কাঠামো, সাংস্কৃতিক এ উভয় কর্মকান্ডের উপর মাসব্যাপি লোক ও কারুশিল্প মেলা এবং লোকজ উৎসব সংঘটিত হয়।আর এই সব অনুষ্ঠান এবং উৎসবে যে কেউই অংশ নিতে পারে। কারণ এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তাই আপনিও এর অংশীদার হতে পারেন।
আপনি কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন যাদুঘরে আসা যায়। যদি আপনার নিজের গাড়ি থাকে। তাহলে তো অনেক ভালোভাবেই যেতে পারবেন। আর আপনি যদি বাসে যেতে চান, তাহলে গুলস্থান থেকে সোনারগাঁও সুপার সার্ভিস, স্বদেশ এবং বোরাক নামের বাসসার্ভিসে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া চৌ্রাস্তায় এসে নামতে হবে। সেখান থেকে রিকসা করে সোনারগাঁ জাদুঘরে যেতে হবে। মোগড়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২ কি;মি; অভ্যান্তরে সোনারগাঁ জাদুঘরের অবস্থান এবং এর সাথেই রয়েছে পানাম নগরী। এছাড়া অন্যান্য যানবাহনে করে যেমন- বাস, মিনিবাস,বেবি-ট্যাক্সি, মোটরসাইকেল সহ যে কোন যানবাহনেই এখানে আসা যায়। যাদুঘরের গেটেই রয়েছে সকল প্রকার যানবাহনের পার্কিং স্থান।(৩১৫)
Post a Comment