Header AD

অপরুপ সুন্দর কাছ থেকে হরিণের ছোঁয়া পাওয়ার এক অন্যরকম অনুভুতি | নোয়াখালী নিঝুম দ্বীপ

নিঝুম দ্বীপই নিরবতা ও শান্তির দ্বীপ,যেখানে হরিনের সঙ্গে বসবাসজীবন এখানে সংগ্রামের কিন্তু এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ যা এমন বৈচিত্রময় দৃশ্য অন্য কোথাও দেখা যায় নাএই দ্বীপ অত্যান্ত আর্কষনীয় এবং খুব শান্ত পরিবেশএতটাই মনমুগ্ধকর যে নিখোঁজ দ্বীপের অনুসন্ধানে পর্যটকরা নীরবতা অনুভব করতে বাধ্য।
মানুষ এখানে ভ্রমণ করতে আসলে তাদের কাছে নিঝুম দ্বীপ চিত্তাকর্ষক সৌন্দর্য প্রায় অস্পষ্ট।নিঝুম দ্বীপের খোঁজে এখনে পর্যটকরা নিরবতা অনুভব করতে বাধ্যএটি আগে উসমান চর নামে পরিচিত ছিলএকটি অসাধারন দৃশ্য এক অনুভুতি তৈরী করবে এবং আপনার জীবনকে স্বস্তিদায়ক পরিবেশে নিয়ে যাবেআপনি যদি নিঝুম দ্বীপে না গিয়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার জীবন অনেক বড় কিছু মিস করলেনএখানে জীবন সত্যিই ঘটনামান,কস্টকর এবং বিরক্তিকর জীবন শৈলী এতে কোন সন্দেহ নেই যা পুরোপুরি জলের উপর নির্ভর করে
নোয়াখালী নিঝুম দ্বীপ

 

এই নিঝুম দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের সাথে সম্পর্ক এবং গাড় নীল পানির অফশোর দ্বীপএই নিঝুম দ্বীপটি নোয়াখালী ও ভোলা জেলার মধ্যবর্তী স্থানেনোয়াখালী জেলায় হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিতএই দ্বীপটি ১৬৩৫২ হেক্টর জমির উপরবালুময় এবং সবুজ ঘাস যুক্ত এই দ্বীপটি দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার জুড়ে
১৯৫০ সালে এই দ্বীপের ক্লাস্টার উত্থান শুরু হয় এবং ১৯৭২ সালের কাছাকাছি সময়ে এখানে জলরাশি নিচে নামতে শুরু করেএর পরেই বনবিভাগ এখানে বনবিভাগের কার্যক্রম শুরু করএখানে বনবিভাগ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ গাছ রোপন করে যেমন কেওড়া, স্থানীয় নামে পরিচিত কেরফা যা খুব দ্রুতবর্ধনশীল যা এই বিরল দ্বীপকে বাঁচিয়ে রেখেছেএছাড়া গেওয়া,বাইন,কাকরা সহ নানান প্রজাতির গাছা রোপন করে বাংলাদেশ বনবিভাগ
বাংলাদেশ বনবিভাগ এই নিঝুম দ্বীপের মধ্যেই ম্যানগ্রোভ বন তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেএই বনের প্রধান আকর্ষন হল চিত্রে চুরি বা স্পটড১৯৭৮ সালে চার জোড়া চিত্রা হরিন এই বনে ছেড়ে দেয়া হয় এবং এখান থেকে এখন হরিণের সংখ্যা ৭ হাজারনানান বণ্য প্রাণি,হরিণ,বানর,মহিষ,বিভিন্ন সাপ এবং ৩৬ প্রজাতির পাখি এই সৌন্দর্য মন্ডিত দ্বীপকে পর্যটকদেরকে আকর্ষন করছেএবং  দ্বীপের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করতে হাজার হাজার অতিথি পাখি বিশেষ করে শীত মৌসুমে এই দ্বীপে এসে হাজির হয়হেরন,হাস পাখি,ইরিগেট,কর্মরেন্ট এবং বিভিন্ন প্রজাতির শিয়াল,শামুক এই নিঝুম দ্বীপে সহজেই দেখা যায়
 ২০০১ সালে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলাদেশ বনবিভাগ নিঝুমদ্বীপকে জাতীয় পার্ক হিসেবে ঘোষনা করে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় পার্ক মুলত প্রাদেশিক প্রশান্ত ও মহাসাগরের পাখি ও বিভিন্ন জলজপ্রাণির সংরক্ষনের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং দ্বীপপুঞ্জটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের আশ্রয় স্থান হয়ে উঠেএটা প্রধানত বেলা,কমলার চর,চর উসমান,চর মুরি নিয়ে অন্তর্ভূক্তউচ্চ জোয়ারের সময় এখানকার বেশ কিছু বসবসের জমি এবং চাষ যোগ্য জমি জলে ঢেকে যায়এখানকার মানুষ জমি চাষ,মাছ ধরা,পশু পালন এবং বিশাল জমি এলাকা নিয়ে সবজি চাষ করে থাকেবিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথেই এখানকার মানুষ বসবাস করেএই দ্বীপে মানুষের জীবন যাপন অনেক কস্টকর এবং ঝুকিপূর্ণ কিন্তু মানুষ মানসিক দুর্বল দুর্ভিক্ষের সাথে সংগ্রাম করে বেচে থাকতে শিখেছে
 
আমি এখানে আমার বস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি সকলের সুবিধার জন্যঃ
 
চমৎকার এই নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের সময় জলের বিভিন্ন অবস্থার জন্য কঠিন হয়ে উঠেদ্বীপের পর্যটকরা এই দ্বীপ থেকে উত্তেজনা পূর্ন সূর্যোদয় এবং চমৎকার সূর্যোস্ত উপভোগ করতে পারে পায়এই বনে আপনি সুন্দরবনের সৌন্দর্য এবং সেন্টমার্টিনের সোন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন
 
নিঝুম দ্বীপের কিছু আকর্ষনীয় স্থান সমূহঃ
 
কমলার দ্বীপ
চৌধুরীর খাল এবং কবিরাজের চর
চোয়াখালী সমুদ্র সৈকত
ম্যানগ্রোভ বন
নামার বাজার সমুদ্র সৈকত
দোমার চর
 
 
আপনি এখানে বাসে বা বিমানে করে যেতে পারবেন নানিঝুম দ্বীপে যাওয়ার তিনটি উপায় নিম্নরূপঃ
 
উপায় ১ ঃ আপনি ঢাকা সদর ঘাট থেকে লঞ্চ নিয়ে যেতে পারেনফারহান-২ এবং ফারহান-৩ নামে লঞ্চ প্রতিদিন সদরঘাট থেকে তামরুদ্দিন,হাতিয়া চলাচল করে থাকেহাতিয়া থেকে মোটরসাইকেল অথবা অটো রিকশাতে মুক্তারিয়া ঘাট পর্যন্ত এক ঘন্টা বা আধা ঘন্টা সময় লাগবেসেখান থেকে টিলা বাজার ট্রলারে যেতে ১০ মিনিট সময় লাগবেআবার এখান থেকে নামা বাজার ২০ মিনিট লাগবে মোটরসাইকেলে যেতেআপনি চাইলে তামরুদ্দিন,হাতিয়া থেকে সরাসরি নামা বাজার নৌকা বা ট্রলারে যেতে পারেনএই সময় যদি নদীতে জোয়ার থাকে তাহলে ২-৩ ঘন্টা সময় লেগে যেতে পারেনৌকা ভাড়া ৪ হাজার টাকা নিবে
 
উপায়-২ ঃ  আমরা ৫ সদস্যের টিম ঢাকা,শ্যামলি থেকে  হিমাচোল বাসে (৪ শত টাকা প্রতিজনে) রাত ১০ টা বেজে ৩০ মিনিটে রওনা হলাম  নোয়াখালী ,সোনাপুর  উদ্দেশ্যেকুমিল্লাতে ছোট একটা চায়ের বিরতির পর আমরা সোনাপুর পৌছালাম প্রায় ভোর ৫ টা বেজে ৩০ মিনিটেখুব সকালে ঘন কুয়াশা কারনে খুব ভাল দেখা যাচ্ছিল নাপ্রায় আধা ঘন্টা পরে সি এন জি ড্রাইভার, রাস্তা,সময় সম্পর্কে আমরা কথা বলছিলামআমরা যেখান থেকে শুরু করেছি এটা আমাদের জন্য একটু কঠিন হলআমরা একটি সি এন জি ভাড়া করলাম ৫ শত টাকা দরে, সময় লাগবে প্রায় এক ঘণ্টাচেয়ারম্যান ঘাট থেকে হাতিয়া দ্বীপ পৌছানোর জন্য ট্রলার এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকা রয়েছেসকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত এখানে যানবাহন পাবেন
 
উপায়-৩ঃ দ্রুত হবে চট্টগ্রাম থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা জাহাজে চড়ে হাতিয়া দ্বীপ যেতে পারবেন এবং এটি প্রথমে সন্দীপ তারপর হাতিয়া যায়এখান থেকে হাতিয়া যেতে প্রায়  ১০ ঘণ্টা সময় লাগে
 
সময়ঃ চট্টগ্রাম সদর ঘাটা থেকে সকাল ৯ টায়
ভাড়াঃ ডেক ১৫০ টাকা (সন্দীপ) ২৫০ টাকা (হাতিয়া)
      কেবিনঃ প্রথম শ্রেণী ৫০০-৭০০ টাকা (সন্দীপ),৫৫০ টাকা (হাতিয়া)
 
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
ঢাকা থেকে সোনাপুর,হাতিয়াঃ বাস সার্ভিস রাত ১০ বেজে ৩০ মিনিট (৪ শত টাকা প্রতি আসন)
সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যান ঘাটঃ সি এন জি ভাড়া ৫ শত টাকা,সময় লাগবে ১ ঘণ্টা
চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিড়া ঘাটঃ জাহাজে প্রতিজনে ৯০ টাকা ,সময় লাগবে ১-১.৩০ ঘন্টা
     ট্রলার ভাড়াঃ ১৫০ টাকা নলচিড়া ঘাট পর্যন্ত,সময় লাগবে ১ ঘন্টা
স্পীড বোর্ডঃ প্রতিজনে ৪০০-৫০০ টাকা, সময় লাগবে ২০-৩০ মিনিট
নলচিড়া ঘাট থেকে মকতাড়িয়া ঘাট পর্যন্ত বেবি টেক্সি পাবেন ,ভাড়া লাগবে ৬০০-৭০০ টাকাসদর উপজেলা হয়ে ৪০ কিলোমিটার যেতে প্রায় ১.৩০ ঘন্টা সময় লাগেএটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘএবং দ্বীপের প্রস্থ ১৫ কিলোমিটারের বেশী নয়
মকতাড়িয়া বাজার থেকে বান্দর টিলা বাজার ইঞ্জিন চালিত নৌকাতে ১০ মিনিটের পথ প্রতিজনে ১০-২০ টাকা
অবশেষে বন্দর টিলা বাজার থেকে নামার বাজার ২০-২৫ মিনিট সময়ে প্রতিজনে ১০০ টাকা খরচ হবে এরপর হোটেলের খোঁজ করুন
এই দ্বীপে  পর্যাপ্ত থাকার জায়গা নেই এখানে একমাত্র রিসোর্ট যেটি নিয়ন্ত্রণ করে অবকাশ পর্যটক বেসরকারী সংস্থাএলাকার স্থানীয়দের মাধ্যমে আপনি রাত যাপনের জন্য বেশ ভাল সুবিধা পেতে পারেনএখানে স্থানীয় মসজিদে রাত যাপনের সুবিধা আছেএই দ্বীপে বন বিভাগ এবং জেলা পরিষদের গেস্ট হাউজ আছে,তবে এখানে অনুমতি নিয়ে হবেএখানে অর্থের বিনিময়ে খাবারের ব্যবস্থাও আছেআপনি চাইলে এখানে তাবু খাটিয়ে রাত যাপন করতে পারেন
নিঝুম রিসোর্ট সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যঃ
ম্যানেজারঃমোঃসবুজহোসেন
মোবাইলঃ০১৭২৫-১৪৫৮৬৪,০১৮৪৫-৫৫৮৮৯৯, ০১৭৩৮-২৩৪৬৫৫
আপনাকে অবশ্যই যাওয়ার পূর্বেই হোটেল ভাড়া করতে হবে (বুধবার থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত)


Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post

ads

Post ADS 1

ads

Post ADS 1