Header AD

শ্রীমঙ্গল - এর সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এর অঙ্গের পরতে পরতে

 

শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের চা বাগানের জন্য বিখ্যাত।বাংলাদেশের অধিকাংশ চা বাগান মৌলভীবাজারে এবং তাঁর মধ্যে বড় অংশ দখল করে আছে শ্রীমঙ্গল।আমরা অনেকে জানি যে চায়ের পাতা গুলি মে মাস থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়।সেই সময় চায়ের বাগান গুলো অসম্ভব সুন্দর সবুজ,জোরালো,ভংগুর এবং অধ্যবসায়ী হয়ে যায়।তাই এই সময় চা বাগান দেখার দর্শনার্থীদের সবচেয়ে উত্তম সময় ও শ্রমীকদের চা সংগ্রহ করার উপযুক্ত সময়।শ্রমীকরা এই সময় দলবদ্ধ হয়ে চা সংগ্রহ করে থাকে।
শ্রীমঙ্গল 




চা-কন্যা নামে অবিহিত ভাস্কার্য টি দিয়েই এই চা বাগানের যাত্রা শুরু করতে পারেন।অত্যন্ত চমৎকার এই ভাস্কার্যটি দেখলে আপনার মন জুড়িয়ে যাবে।এই ভাস্কার্যটিতে একজন যুবতী যিনি চা বাগান থেকে চা সংগ্রহ করে এমন একটি ভাস্কার্য।আমাদের মত এই সাদা ভাস্কার্যটি শ্রীমঙ্গলের প্রবেশদ্বারে দেখতে পাবেন যা প্রত্যেকেরই আকর্ষণ করে।ঐ ভাস্কার্যের সামনে একটি বিশাল সাতগাও নামে একটি চা বাগান রয়েছে।যেখানে আপনি বেশ সময় পার করতে পারেন চমৎকার চা বাগান দেখে।

এই ভাস্কার্য থেকে শ্রীমঙ্গল খুব বেশী দূর না।এই ছোট শহর শ্রীমঙ্গলকে ছেড়ে একটু দূরে আসেন। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)রয়েছে এখানে।আমরা যদি একটু ইতিহাস দেখি তাহলে জানি যে পাকিস্তানি চা বোর্ড ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশে) একটি চা গবেষণা স্টেশন প্রতিষ্ঠা করে।বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠানকে একটি গবেষণা কেন্দ্রে রূপ দেয়।ভরতের আসামের পরেই উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরাতন চা গবেষণা রয়েছে এই শ্রীমঙ্গলে।যা দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে ভিড় জমায়।এখনে ফিনলে চা বাগান,বিটিআরআই চা বাগান, ভেনুগাছ চা রিসোর্ট,জেরিন চা বাগান ইত্যাদি চা বাগান রয়েছে।এখানে আরো রয়েছে নুরজাহান চা এস্টেট নামে আরেকটি চা বাগান এবং লাওচোরার কাছাকাছি আরো বেশ কিছু চা বাগান রয়েছে।

মৌলভীবাজারের আরেকটি উপজেলা কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গল থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে।এবং লাওচোরা পথেই জাতীয় উদ্যান রয়েছে।কোমলগঞ্জ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে মাধুপুরে আছে চমৎকার লেক।চারপাশে ছোট ছোট চা বাগানের পাহাড়।যা আপনাকে মনমুগদ্ধ করবে।তবে এখানে যেতে হলে আপনাকে জীপ গাড়ী ভাড়া করতে হবে। আপনি এই মধুপুর লেকে দারুন এক সময় কাটাতে পারেন।

মধুপুর লেক থেকে একটি রাস্তা চলে গেছে ধোলাই সীমান্ত পর্যন্ত।বাংলাদেশের সীমান্ত পর্যন্ত ,রাস্তার দুধারে চা বাগান আর চা বাগান।সীমান্তে একটি বিজিবি পোস্ট আছে।সেই পোস্টের পাশা-পাশি আছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরেণে স্মৃতিসৌধ ।আপনি এখান থেকে আবার শ্রীমঙ্গলে ফিরতে পারেন চা বাগান দেখতে দেখতে।

আপনি ভ্রমনের পর নীলকণ্ঠ কেবিনে সাত রঙের চা খেতে পারেন।আমরা আগেই অনেকে শুনেছি এই চায়ের কথা।শ্রীমংলের বিজিবি ক্যাম্পের পাশে একটি নীলকণ্ঠ কেবিনের শাখা আছে। আপনি এখান থেকেও সাত রঙের চায়ের স্বাদ নিতে পারেন।

প্রয়োজনীয় তথ্যঃ
আপনি রাস্তাতে যেতে যেতে চা বাগানের অত্যন্ত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পারেন।তবে আপনি যদি চা বাগানের ভেতর প্রবেশ করেতে চান তাহলে সংশ্লিষ্ট বাগান কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রবেশ করতে পারেন।তবে এ ক্ষেত্রে আপনাকে জীপ ভাড়া করতে হবে।

আপনি বেথ স্টেশন থেকে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার জন্য জীপ ভাড়া করতে পারেন।যে সব ড্রাইভার শ্রীমঙ্গল চা বাগান চিনে এমন জীপ পর্যাপ্ত পাবেন এখানে।

শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য আপনি পাবেন হোটেল,রিসোর্ট,রেস্ট হাউজ অনেক পাবেন।শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য আপনাকে দারুন ভাবে আকর্ষণ করবে।এখানে গ্রান্ড সুলতান চা রিসোর্ট এবং গলফ খেলার স্থানে থাকার জায়গা হিসেবে সবচেয়ে বেশী পছন্দ হতে পারে।

Post a Comment

Post a Comment (0)

Previous Post Next Post

ads

Post ADS 1

ads

Post ADS 1